খিস্তিচরিত-তৃতীয় কিস্তি

একজন বাঙ্গালির রক্তের যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, আমরা প্লাজমা, রক্তকণিকা  ও অন্যান্য বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল পদার্থ ছাড়াও আরও যে সমস্ত জিনিস দেখতে পাবো, সেগুলো হল, ফুটবল, মোহন-ইস্ট ও ঘটি-বাঙ্গাল কাজিয়া, ল্যাধ, মাছ, ফুচকা, আড্ডা ইত্যাদি। ও হ্যাঁ, আর একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাদ গেল, সেটা হল খিস্তি। একজন বাঙালি মোটামুটি ভাবে জন্মের আগে থেকেই খিস্তি জানে। মনে করা হয় যে বাঙ্গালিদের ২১ নং ক্রোমোজোমের এক অংশে এই খিস্তির জন্য জিন বিদ্যমান (এ ব্যাপারে রিসার্চ চলছে, সঠিকভাবে জানা যায়নি কিছু, আরও তথ্যের জন্য এ ব্যাপারে বিশেষ কয়েকজন বৈজ্ঞানিক এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো হয়, আমায় ফেসবুকে মেসেজ করলে আমি তাঁদের হদিস দেব)। যদিও, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আমাদের মত বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে, এই বাংলা খিস্তির জিনটি কর্মক্ষম হয় একজন বাঙালি বাচ্চা কথা বলতে শেখার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই। তারপর, বাবা মা-র পিটুনির ভয়ে ধীরে ধীরে কমে আসে, তারপর আবার দেহে চুলের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে খিস্তি ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, ও অবশেষে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চুল এর হিন্দি প্রতিশব্দ "বাল"(= बाल) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খিস্তি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যার গুরুত্ব অপরিসীম(https://wricreation.blogspot.com/2018/05/blog-post_15.html)।
***
আজকে যে খিস্তির পশ্চাদ্দেশের বিদারণ(= anal lysis = analysis) অর্থাৎ বিশ্লেষণ করব, সেটিকে ভাষা তথা প্রাণীকুল এর এঞ্জিন বলে মনে করা হয়।"বাঁড়া", বা মতান্তরে "বাড়া",ইং. Penis (https://en.wikipedia.org/wiki/Human_penis)।
এই শব্দের উৎপত্তি অবশ্যই বায়োলজিক্যাল কিন্তু এই শব্দের গালি হিসেবে ব্যবহার কিভাবে ও কেন শুরু হয় তা নিয়ে ভাষাতাত্বিকরা গবেষণা চালাচ্ছেন, তেমন কোন তথ্য এখনো মেলেনি।একে যদি সাধু ভাষায় বা ইংরাজিতে বলা হয় তবে এর স্ল্যাংত্ব সম্পূর্ণরূপে কমে যায়।
এই শব্দ কে বাক্যের সর্বত্র ব্যবহার করা যায়। বিখ্যাত ভাষাবিদ ডক্টর লিঙ্গরাজ যেনবড়বাজ এর মতে,"বাঁড়া হল একটি বাক্যের অকথিত এঞ্জিন। যেকোনো মিয়নো বাক্যকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে এর ভূমিকা সিলডেনাফিল সাইট্রেটকেও হার মানায়।"
ব্যবহারঃ 
১. "তুমি বাঁড়া কে হে?"
২. "ভাগ বাঁড়া, কিচ্ছু দেবো না।"
ইত্যাদি অসংখ্য ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, বাঁড়া কে যেকোনো বাক্যের যেকোনো অবস্থানে সফলভাবে ব্যবহার করা যায়, আর এই নমনীয়তাই এই শব্দকে এত দারুণভাবে জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় করে তুলেছে।
**
"হে বাঙালি, ভুলিও না, ঘটি-বাঙাল কাজিয়া যতই হোক, বাঙালি তোমার ভাই। বাংলা তোমার মায়ের শুধু না, তোমার পূর্বপুরুষেরও ভাষা। বাংলা ভাষার উপর হিন্দি বা অন্যান্য ভাষার চেপে বসা মেনে নিও না। বাংলা খিস্তি কে পুনরুজ্জীবিত কর, এগিয়ে নিয়ে চল এই ঐতিহ্য কে।খিস্তিয়ে যাও, খিস্তির প্রসার ঘটাও।"
***
আপনার কাছে যদি বাঁড়া শব্দের ব্যাপারে ভাষাতাত্বিক কোন তথ্য থাকে বা অন্য যেকোনো ব্যাপারে কিছু বলার থাকে,বা বন্ধুত্ব করার ইচ্ছে থাকে, তবে স্বচ্ছন্দে যোগাযোগ করুন লেখকের সঙ্গে (লেখকের ফেবু আইডি-https://www.facebook.com/wrichik.ash )।



পুনশ্চ,কেউ ঐ ২১ নং ক্রোমোজোম কে সিরিয়াস্লি নিলে পস্তাবেন। আর, টেসলা কয়েলের ছবি কেন দিলাম, না বুঝলে...


Comments

Popular posts from this blog

খিস্তিচরিত-চার কিস্তিতে

খিস্তিচরিত-দ্বিতীয় কিস্তি